Subscribe Us

Header Ads

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ পদকল্পতরু : দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা



 *#শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ_পদকল্পতরু*

*দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা*
শ্ৰীমন্ মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যহরির শ্রীচরণানুচর নিত্যসূরী শ্রীরূপ গােস্বামি-বিরচিত ‘পদ্যাবলী’ নামক সংকলন গ্রন্থের নাম সজ্জনসমাজে সুবিদিত। পদ’ শব্দটি বােধ করি ‘পদ্য শব্দেরই সার। সেই বিশেষ পদগুচ্ছ বা পদ-সমাহারই > পদাবলী আখ্যায় বিবর্তিত। রচনার কালবিচারে বৈষ্ণব পদাবলীকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে— প্রাক-চৈতন্যকালিন, চৈতন্য-সমকালিন ও চৈতন্যোত্তরকালিন। আবার ভাব-বিচারেও বােধকরি এ পদাবলী ত্রিধাবিন্যস্ত হতে পারে শ্রীব্রজলীলা-বিলাসময়ী পদাবলী, শ্ৰীমন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যহরি ও তাঁর অভিন্নতনু শ্ৰীমন্ নিত্যানন্দ-প্রমুখজন-কেন্দ্রিক শ্রীনদীয়ালীলাময় পদগুচ্ছ এবং শ্রীমহাপ্রভুর পরিকর-পরিজনদের নাম-রূপ-গুণ-লীলাসূচক পদ-সমাহার। যে দিক হতেই দেখি, এ পদাবলীগুলির মূলমন্ত্র তন্নিষ্ঠ ভালবাসা। এককথায় বলতে গেলে—তা, ভালবাসবার জন্যই ভালবাসা > যা একান্তই নিহেতু, যা ভালবাসার নামে মন্দের বাসা নয়, আত্মসুখবিরহিত।
প্রসঙ্গতঃ প্রাক-চৈতন্যকালিন জয়দেব, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস প্রভৃতি মহাজন-পদকারদের পদের গুরুত্ব, মাহাত্ম বা দাতৃত্ব—অনন্য, অভিনব তথা অমৃতবষী। প্রামাণ্য গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাসসম্পুট > “শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে” (মধ্যলীলা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ) প্রত্যক্ষ হয়, অনৰ্পিতচর মহাদানী শ্রীমন্ মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যহরি গম্ভীরালীলায়, জয়দেব, চণ্ডীদাস প্রমুখ পদকর্তাদের অনুভবনিষ্ঠ পদাবলী-আস্বাদনে বিভাের-বিহ্বল হয়ে থাকতেন—
“চণ্ডীদাস-বিদ্যাপতি, রায়ের নাটক-গীতি,
কর্ণামৃত, শ্রীগীতগােবিন্দ।
স্বরূপ, রামানন্দ সনে মহাপ্রভু রাত্রিদিনে
গায় শােনে পরম আনন্দ।”
পদাবলীসহৃদয়ের হৃদয়ান্দোলন-সঞ্জীবন, ভাবুকের ভাবস্ফুর্তির নিগমনিগূঢ় অনুভবপীঠ, রসিকের রসায়নােৎসব, প্রেমিকের জীবাতু > প্রেম প্রসঙ্গ-সম্পুট, অনুশীলকের অনুস্মরণভূমি। এ সাধারণ সামাজিকের সুবিমল চিত্তবিনােদক আর তন্ময় জনের উপাসনার মূলমন্ত্র।
এ গ্রন্থটির মাঝে প্রথম ভাগ > পল্লবে, প্রভু নিত্যানন্দকে নিয়ে রচিত সংস্কৃত অষ্টক, স্তব, শতনাম-স্তোত্রসমূহ, বাংলা স্তুতি, দ্বিতীয় ভাগ > প্রসূনে, তাঁরই রূপ-গুণ-লীলা-মহিমা-ভাব-রস, প্রেমানুভব-নাম-ধাম-পরিকর-লীলাসূচক > এক কথায় প্রভু নিত্যানন্দকেন্দ্রিক পদ-পদাবলী, মহাজনপদ-সংকলন ও কবিতাগুচ্ছ আর তৃতীয় ভাগ > পরাগে—কীর্তিত হয়েছে লৌকিক কবিদের ভাবস্কৃর্ত প্রভু নিত্যানন্দের স্বরূপ বর্ণন, যা তাঁরা অনুভব করেছেন আপন ভালবাসার নিরিখে > শরণাগতির মণিকোঠায় বসে বসে।
প্রথম সংস্করণ হতে দ্বিতীয় সংস্করণে অনেকগুলি পদ, অধিক সংকলিত হয়েছে। প্রভু জগদ্বন্ধুসুন্দরের ভাবস্কৃর্ত কয়েকটি পদ, এই দ্বিতীয় সংস্করণকে অলঙ্কৃত করে, অবশ্যই রসিক জনের ভাবস্কৃর্তি ঘটিয়েছে। তিনি, প্রভু নিত্যানন্দকে বড়ই ভালবাসতেন। শ্রীমুখে বলেছেন— কারুণ্যপ্রতিম মাের নিত্যানন্দ রায়...'। অনুসন্ধিৎসু ন স্বতন্ত্র গ্রন্থে তাঁর অলােক চরিতানুশীলনে সব জানবেন। লালন যরি, গগন ডাকহরকরা ও গীতিকবি আফজল প্রমুখের ভালবাসামাখা অনুভবও ছড়িয়ে আছে এ গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে। প্রত্যক্ষ-পরােক্ষে এঁরা সকলেই নিত্যানন্দ-রসামােদী। পূর্ব-পর সকল পদারগণের শ্রীচরণে বারবার প্রণাম নিবেদন করি। কৃপা করুন সবাই। পরিশেষে নিবেদন- নিতাইচাদের রূপ-গুণ-লীলা লয়ে
সংকলিত ‘পদকল্পতরু'।
নিলেন করায়ে যাহা পূর্বাচাৰ্য্যগণ
আর যাহা দিলেন- শ্রীগুরু৷৷
সে সকল এক করি এ পুঁথির পাতে
নিবেদিনু পাঠক-সকাশে।
সবার চরণে মাের একান্ত আকুতি
কৃপা করু বিপথিক এ দাসে৷৷
-শ্রীগুরুচরণাশ্রিত
শ্রীজীবশরণ দাস

Post a Comment

0 Comments